ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যার পানিতে ভেসে আসা মাছ খাওয়া নিয়ে সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৫৩ মিনিট আগে
নেপালে বন্যার পানিতে ভেসে আসা মাছ খাওয়া নিয়ে সতর্কতা জারি
নেপাল থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে ভারতের বিহারের গণ্ডক নদী ও আশপাশের প্লাবনভূমিতে ভেসে এসেছে বেশ কিছু অচেনা ও অস্বাভাবিক মাছ। এসব মাছের পরিচয় ও খাওয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের তা না খাওয়া এবং কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিহার সরকার। বন্যার পানিতে দূষিত পদার্থের সংস্পর্শে এসে এসব মাছ ক্ষতিকর জীবাণু বহন করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের মৎস্য শাখা এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। পশ্চিম চম্পারণ ও গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেপাল থেকে আসা বন্যার পানি গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে পশ্চিম চম্পারণ ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত করেছে। এর ফলে নদীর পাশাপাশি স্থানীয় পুকুর, জলাশয় এবং নিচু এলাকাগুলোতেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এসব জায়গায় অস্বাভাবিক দেখতে কিছু মাছ পাওয়া যাওয়ার পরই সতর্কতা জারি করা হয়।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যার সময় পুকুর, নদী ও অন্যান্য জলাশয় থেকে মাছ স্রোতের সঙ্গে ভেসে গিয়ে অনেক দূরের এলাকায় চলে যেতে পারে। এ সময় মাছগুলো দূষিত নর্দমার পানি, মৃত প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারে।

ফলে এসব মাছের শরীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকজনিত দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বন্যার পানিতে ভেসে আসা অচেনা বা অস্বাভাবিক দেখতে মাছের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারের পরামর্শে বলা হয়েছে, কোনো অচেনা বা অস্বাভাবিক দেখতে মাছ খাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে মাছটির পরিচয় ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অপরিচিত মাছকে খাবার উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

বাসিন্দাদের বন্যার পানি থেকে ধরা অপরিচিত মাছ কেনাবেচা না করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ কোনো মাছের মতো দেখতে হলেই অস্বাভাবিক প্রজাতির মাছকে নিরাপদ ধরে না নেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

সরকারি সতর্কতায় বলা হয়েছে, অচেনা বা সন্দেহজনক মাছ খাওয়ার পর কারও বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অর্থাৎ শুধু মাছটির চেহারা দেখে সেটিকে নিরাপদ মনে না করে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রজাতি ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার পরিচালক সমীর কুমার সিনহা জানিয়েছেন, নেপালের বন্যার পর বিহারের গণ্ডক নদীতে ভেসে আসা বেশিরভাগ অস্বাভাবিক মাছ ‘ব্যাগারিয়াস ব্যাগারিয়াস’ (Bagarius bagarius) বলে মনে করা হচ্ছে। মাছটি সাধারণভাবে গুঞ্চ ক্যাটফিশ নামে পরিচিত এবং স্থানীয়ভাবে ‘গোচিতা’ নামেও পরিচিত।

সমীর কুমার সিনহার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বড় আকারের মিঠাপানির ক্যাটফিশ। ভারত, নেপাল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলের দ্রুত স্রোতযুক্ত নদীতে এ মাছের দেখা মেলে।

এ প্রজাতির মাছ মাংসাশী। ছোট মাছ, কাঁকড়া এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। সাধারণত নদীর গভীর ও প্রবল স্রোতযুক্ত অংশে পাথরের আড়ালে এরা অবস্থান করে।

সমীর কুমার সিনহা বলেন, স্থানীয় অনেক সম্প্রদায় এই মাছ খেয়ে থাকে। তবে মাছটি মারা যাওয়ার পর খুব দ্রুত পচন ধরতে পারে। পচে যাওয়া মাছ খেলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি জনগণকে বিহার সরকারের জারি করা সতর্কতা মেনে চলার এবং বন্যার সময় অপরিচিত মাছের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ব্যাগারিয়াস ব্যাগারিয়াস প্রজাতির মাছকে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

নেপালের বন্যার পানি গণ্ডক নদী দিয়ে বিহারে প্রবেশের পর অস্বাভাবিক মাছের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ বলছে, মাছের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটি খাওয়া বা বাজারজাত করা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ। টাইমস অব ইন্ডিয়া


কমেন্ট বক্স